আজব রঙের কল বসাইল

আজব রঙের কল বসাইল
মানুষেরই দেহায়
সেই কলের নাম হয় সুগারমিল
দেখবে যদি শীঘ্র আয়।।

করিয়াছে কি কাণ্ড
সেই কাণ্ড অখণ্ড
দণ্ড মেরুদণ্ড
কি চমৎকার দেখা যায়।।
দুই শ ছয়টা হাড়ের জোড়া
স্থানে স্থানে ইস্কুপ মারা
মানবকল করেছে খাড়া
করাচির মেস্তরিরায়।।

নাভির নিচে করে কৌশল
বাহাত্তর হাজার দিয়াছে নল
অগ্নি বায়ু জল চলাচল
করিতেছে সর্বদায়।
ইলেকট্রিক কারেন্টের বলে
ললাটের দুই বাতি জ্বলে
কণ্ঠমূলে ষোড়শদলে
জল টানে মনরে সে জায়গায়।।

ইঞ্জিন হলো মূলাধারে
চালাইতাছে ড্রাইভারে
কুণ্ডলিনী শক্তির জোরে
সব সময় চলতেছে যার।
শ্বাস-প্রশ্বাস দুই পিতার জোরে
দিবানিশি চাক্কা ঘুরে
চব্বিশ হাজার ছয় শ পাওয়ারে
চলিতেছে চব্বিশ ঘণ্টায়।।

মনবাবুর সঙ্গে নিয়া
ক্ষুধার জ্বালায় মাল টানিয়া
ইচ্ছা শক্তি কয়লা হইয়া
সময় মতো মাল উঠায়।
পাঁচ জনে উড়াইলে পরে
বত্রিশ জন ছাপিয়া ধরে
উল্টা-পাল্টা একজন করে
আরেক জনে ভিতরে পাঠায়।।

অধরে ইক্ষুর বলে
ময়লা বাহির গুহ্যদ্বারে
ঘাম বাহির হয় তিনটি দ্বারে
যখন রস ঝাইরা উঠায়।
স্থানে স্থানে জ্বলবে চুলা
হজমবাবু দিবে কয়লা
অগ্নিমন্দা ডাকাইতের চেলা
মাঝে মাঝে আগুন নিভায়।।

হৃদপদ্মের বাম ধারে
ঘড়ির কাটা সব সময় ঘুরে
ঘণ্টায় ঘণ্টায় টনটন করে
টাইম দিতেছে সর্বদায়।
এক চাবিতে জীবন ভরে
ঘড়ির কাঁটা সব সময় ঘুরে
পঁচাত্তরবার লাভ
হিসাব করলে পাওয়া যায়।।

দেহঘড়ির টাইম দেখিয়া
হিমগ্লোবিন পদার্থ দিয়া
নাইট্রোজেনের মতন করিয়া
লাল চিনি বানায়।
সেই চিনির মতন করে
সাদা জবা তৈয়ার করে
বোম্বাই শহরে গুদাম ভরে
স্টক রাখে মাল সেই জায়গায়।।

সিঁদ কাটিয়া মদনচোরা
চিনির গুদাম চুরি করে
কাম চৌধুরী ধাক্কা মেরে
বস্তার বস্তা চিনি ফালায়।
নিয়া রমণীর বাজারে
নকল ডাকাইতে ছটফট করে
চিনি খাওয়ার রাক্ষসী পরে
চুম্বক দিয়া মাল লইয়া যায়।।

চিনির গুদাম নিলো চোরে
চিন্তারামে জানতে পেরে
চলে যায় মস্তক উপরে
জ্ঞানবাবু থাকে সেথায়।
ঠিক মতন দিলে এজাহার
জ্ঞান ম্যাজিস্ট্রেট করত বিচার
দুর্বিন শাহ হলো লুজার
কে মামলার খরচ চালায়।।

(দেহতত্ত্ব)