কারিগর

লক্ষ পাথরে গড়া পাহাড় ভেঙে হল একাকার,
ঘুম ছেড়ে তুমি ছুটে এস কারিগর।
চলাে এক সাথে তুলে নেই হাতে পাহাড় গড়ার ভার
আজ বিরামের নাই তিল অবসর
কাঁধে কাঁধ দিয়ে গড়ে তােলাে আজ কাতারে সামিল হ’য়ে,
বিশাল জামাত, বিপুল পাহাড় মাের,
গিরিতটচ্যুত পাথরের ব্যথা বাতাস আনিছে ব’য়ে
কারিগর! ভাঙো সুমধুর ঘুমঘাের।
মাের পাহাড়ের পাথর নিয়ে কে করিছ ব্যবসাদারী
কারিগর! তুমি সন্ধান নাও তার।
প্রবঞ্চকের খােলসে ফিরিছে জালিম অত্যাচারী,
অবসর তাকে দিওনাকো পালাবার।
বড় দুশমন মারবার আগে ঘরকে সামাল দিয়ে
কারিগর! মােরা খুঁজব বাহির পথ;
দুনিয়ার সব প্রান্তর হতে পাথর কুড়ায়ে নিয়ে
কারিগর! মােরা গ’ড়ে যাব পর্বত।
তুমি কি শােননি মাের শিলাতটে অযুত আর্তধ্বনি
মার খেয়ে আসিছে নিসাড় হ’য়ে
জিন্দানখানা গড়িছে দু’পাশে পিশাচের বন্ধনী;
মানুষ চ’লেছে জালিমের বােঝা ব’য়ে।
তুমি কি শােননি মাের অনাগত মূসার পদধ্বনি
সেই প্রান্তরে উঠিছে আবার ফুটি?
নীল দরিয়ার কূলে কূলে তার সাড়া উঠে রণরণি
ভেঙে পড়ে ডরে কারুণের ভীরু মুঠি।
ভয়ে ফেরাউন তােলে চারপাশে শত নিষেধের বেড়া,
নীল শঙ্কায় মরে সে অত্যাচারী।
তখ্‌তে বসিয়া সভয়ে সে দেখে অপমৃত্যুর ডেরা!
কখন পড়িবে শিরে তার তরবারি?
সে বনি ইসরাইলের শক্ত নারীকে বাঁচায়ে রেখে
খঞ্জর তােলে সব পুরুষের বুকে,
তার কলুষিত কামনায় কাঁদে মজলুম মুখ ঢেকে
মাতে আজাজিল জঘন্য কৌতুকে…
দুই মুঠো ক্ষুদ ভিক্ষা নিয়েও সতীত্ব হয় দিতে,
দুয়ারে তােমার এমন জামানা আজ—
গােলামের বেশে পুরুষ ফিরিছে শঙ্কিত ভীরু চিতে,
পাশবিক ভয়ে হেরিতেছে শাহী-তাজ।
মাের পাহাড়ের পাথর যে তারা একথা গিয়াছে ভুলে,
মাের জামাতের সমান সে দাবীদার,
কারিগর! তুমি শােনাও সে-কথা আকাশে তুফান তুলে
দেশে দেশে তুমি করাে তারে বিস্তার
মাের জামাতের সকল স্বপ্ন ভেঙে ভেঙে হ’ল চুর,
মিশে গেল মরু—বালুকায়—সাইমুমে।
ঝড়-মৌসুমে চলে আজি মােরা গড়ি সেই কোহিতুর
কারিগর। তুমি থেকো না অসাড় ঘুমে।।