বাল গঙ্গাধর তিলক

ভারতমাতার ভালের তিলক বালার্কবররুচি—
কোন অভিশাপে সহসা আজিকে চিরতরে গেল মুছি’
ভিতরে-বাহিরে ঘন দুর্য্যোগ বর্ষা-নিবিড় রাতি—
দিশাহারা দেশ করেছিল যারে সঙ্কট-পথ-সাথী;
দশদিক ঘেরি’ আঁধারে, লুকা’ল কোথা সে দীপ্তশিখা-
সুকৃতি-অন্তে স্বর্গের মত—স্বপ্নের রাজটীকা!

মহারাষ্ট্রের রাষ্ট্ৰতিলক নহ শুধু তুমি বীর—
তুমি যে মূর্ত্ত দক্ষিণ বাহু ভারত জয়শ্রীর;
লক্ষ্য তােমার নিত্য নিরত আৰ্য্যগরিমা লাভে,
ধৰ্ম্মেব সাথে কর্ম্মে মিলাতে ভবের সহিত ভাবে;
হে দেশমান্য দেশের কৰ্ম্ম হয়েছে কি সমাপন—
সূচনায় শেষ হ’ল কি তােমার মৰ্ম্মের আরাধন?

প্রতিভা-দীপ্ত রুদ্র-ললাট হে বাল-গঙ্গাধর!
শির পাতি’ শত মহা তরঙ্গ লয়েছ নিরন্তর;
কালিমা ভস্মে অঙ্গ-বিভূতি করিয়া পরেছ সুখে,
চির-দারিদ্র্য-কঙ্কালমালা পরিয়াছ সাধি’ বুকে;
নীলকণ্ঠের মত হলাহল করি’ আকণ্ঠ পান
অমৃত আহরি’ সবাকার করে করিয়া গিয়াছ দান।

জ্ঞানের মানের প্রতিভা প্রাণের ছিলে তুমি অবতার,
মানব-মনের মহা-মহারাজ স্বাধীন নিব্বিকার;
ভারত ভরিয়া আজি তাই তব উঠিতেছে জয়গান,
ত্রিশকোটি লােকে কাঁদে হের শোক বিষণ্ণ ম্রিয়মাণ!
হে লােকমান্য। লোকসভা ছাড়ি’ কোন লােকে তুমি আজ,
হে চিরকর্ম্মা সে নতুন লোকে আজি তব কোন্‌ কাজ!

কাঁদে কি সেথায় ব্যথাতুর দীন অসহায়,—
মানুষের গড়া বন্ধন বেড়ী বাজে কি তাদের পায়?
আছে কি সেথায় উচ্চে ও নীচে নিষেধ-বিধির বাঁধ,
প্রাণের কষ্ট মুখে বলা সে কি অসহ্য অপরাধ?
থাক্‌ বা না থাক্‌, তোমার আলোকে এইটুকু মোরা জানি—
আকাশের পথে ভোলে না বিহগ ধরণীর নীড় খানি!

হেন যদি হয়—আর তুমি তো ফিরিবে না কোনদিন,
জন্মান্তর অলীক স্বপ্ন – মিথ্যা যুক্তিহীন,
তবে তাই হােক্‌—সেথা হ’তে তুমি বরিষ আশীর্ব্বাদ—
তােমার ভারত চিনে যেন তােমা বিমুিক্ত-অবসাদ;
তার বেশী আর কোন কিছু আজ নাহি হেথা চাহিবার—
তৰ আদর্শে দেশেরে জানিতে দাও শুধু অধিকার।