সেদিন যবে

সেদিন যবে মােদের ছাড়াছাড়ি—
বচন-হারা সজল আঁখি নত;
আধেক ভাঙা বুকের ব্যথা নিয়ে
কতদিনের—কতদিনের মতাে!

কপােল তব পাংশু হয়ে এল,
চুম্বনেতে নাই সে নিবিড়তা;—
সত্য বলি, সেই বিদায়ে যেন
বুঝেছিলাম আজিকার এই ব্যথা।

শীতের ঊষার শিশিরকণা লেগে
ললাট আমার এল যে হিম হয়ে;—
তাতেই যেন আজিকার এই দশা
ইঙ্গিতেতে দিল আমায় কয়ে!

সে সব শপথ কোথায় গেছে ভেঙে—
নামে তােমার শুনি অনেক কথা;
হেথায় হতে সে সব কথা শুনে
তােমার লাগি আমার জাগে ব্যথা।

সাক্ষাতে মাের নাম করে তাের লােকে—
কানে আসে মৃত্যুশ্বাসের মতাে;
সর্ব দেহ শিউরে উঠে মাের—
কেনরে তুই প্রিয় ছিলি এত?

জানে না তারা—আমি যে তােরে জানি,
যেমন জানা কেউ জানে না আর;
যাহার লাগি ভুগিতে হবে কত—
ভাষায় হায় নাহিকো ভাষা তার!

বড় গােপনে মােদের সে মিলন,
নীরবে আজি কাঁদিতে হবে তাই;
হৃদয় তাের—ছলনা সেও জানে,
ভুলিতে পারে—সে কথা ভাবি নাই!

তবুও যদি দীর্ঘ দিন শেষে
আবার দেখা হয় সে চোখে চোখে;—
কেমনে বল্‌ বরিব তােরে আমি?
—সজল চোখে, নীরব নত মুখে। [বায়রন]