একদিন কুয়াশার এই মাঠে

একদিন কুয়াশার এই মাঠে আমারে পাবে না কেউ খুঁজে আর, জানি;
হৃদয়ের পথ-চলা শেষ হল সেই দিন-গিয়েছে সে শান্ত হিম ঘরে,
অথবা সান্ত্বনা পেতে দেরি হবে কিছুকাল – পৃথিবীর এই মাঠখানি
ভুলিতে বিলম্ব হবে কিছুদিন; এ মাঠের কয়েকটা শালিকের তরে

আশ্চর্য বিস্ময়ে আমি চেয়ে রব কিছুকাল অন্ধকার বিছানার কোলে,
আর সে সােনালি চিলের ডানা মেলে দূর থেকে আজও কি মাঠের কুয়াশায়
ভেসে আসে? সেই ন্যাড়া অশ্বত্থের পানে আজও চলে যায় সন্ধ্যা সােনার মতাে হলে
ধানের নরম শিষে মেঠো ইঁদুরের চোখ নক্ষত্রের দিকে আজও চায়?

সন্ধ্যা হলে? মউমাছি চাক আজও বাঁধে না কি জামর নিবিড় ঘন ডালে,
মউ খাওয়া হয়ে গেলে আজও তারা উড়ে যায় কুয়াশায় সন্ধ্যার বাতাসে-
কত দুরে যায়, আহা…অথবা হয়তাে কেউ চালতার ঝরাপাতা জ্বালে
মধুর চাকের নীচে – মাছিগুলাে উড়ে যায়…ঝ’রে পড়ে…ম’রে থাকে ঘাসে-

ভেবে ভেবে ব্যথা পাব-মনে হবে, পৃথিবীর পথে যদি থাকিতাম বেঁচে,
কিন্তু থাক, সেই লক্ষ্মীপেঁচাটির মুখ যারে কোনােদিন ভালাে ক’রে দেখি নাই আমি-
এমনি লাজুক পাখি – ধূসর ডানা কি তার কুয়াশার ঢেউয়ে ওঠে নেচে;
যখন সাতটি তারা ফুটে ওঠে অন্ধকারে গাবের নিবিড় বুকে আসে সে কি নামি?

জিউলির বাবলার আঁধার গলির ফাঁকে জোনাকীর কুহকের আলাে
ঝরে না কি? ঝিঝির সবুজ মাংসে ছােটো ছােটো ছেলেমেয়ে বউদের প্রাণ
ভুলে যায়; অন্ধকারে খুঁজে তারে আকন্দবনের ভিড়ে কোথায় হারালাে
মাকাল লতার তলে শিশিরের নীল জলে কেউ তার পাবে না সন্ধান।

আর সেই সােনালি চিলের ডানা – ডানা তার আজও কি মাঠের কুয়াশায়
ভেসে আসে?-সেই ন্যাড়া অশ্বত্থের পানে আজও চ’লে যায় সন্ধ্যা
সােনার মতাে হলে?
ধানের নরম শিষে মেঠো ইঁদুরের চোখ নক্ষত্রের দিকে আজও চায়?
আশ্চর্য বিস্ময়ে আমি চেয়ে রব কিছুকাল অন্ধকার বিছানার কোলে।