পৃথিবী ও সময়

সময়ের উপকণ্ঠে রাত্রি প্রায় হয়ে এল আজ
সূর্যকে পশ্চিমে দেখি সারা শতাব্দীর
অক্লান্ত রক্তের বোঝা গুছায়ে একাকী
তবুও আশার মত মেঘে-মেঘে বলয়িত হয়ে
শেষ আলো ঢেলে যায়;- জ্যোতিঃপ্রাণধর্মী সূর্য অই;
একদিন অ্যামিবার উৎসারণ এনেছিল;
জীবনের ফেনশীর্ষ সিন্ধুর কল্লোল একদিন
মানুষকে পেয়েছিল; —না-ধর্মী মানুষ সেইদিন
ভয় পেত, গুহায় লুকাত, তবু সূর্যকরোজ্জ্বল
সোনালী মানবী তাকে ‘হাঁ’ বলাল—নীল
আকাশ নগরীরেখা দেখা দিল;- শঙ্খ আমলকী
সাগর অলিভবন চেনা গেল রোদ্রের ভিতরে;
শ্বেতাশ্বতর-প্লেটো-আলোকিত পৃথিবীর রূপ
অনাদির দায়ভাগে উৎসারিত রক্তের নদীর
শিয়রে আশার মত জেগে উৎসাহিত সূর্যকরে
সহসা নতুন হিংসা রক্ত গ্লানিমার কাছে প্রতিহত হয়ে
ধীরে ধীরে নিঃশেষে ফুরায়ে গেল তবু।

ভাই-বোন-স্মৃতি-শান্তি হননের ঘোরে উদ্বেলিত
বহতা নদীর মত আজো এই পৃথিবী চলেছে।
তবুও তো সেই উদ্ঘাতিনী
নদীরমণীর শব্দ কানে নিয়ে—প্রাণে
আকাশে জ্যোতিষ্ক জ্বলে হস্তা অভিজিৎ,
অনুরাধা শতভিষা লুব্ধক স্বাতী;
পৃথিবীতে—হৃদয়েরও গতিপথে বর্ণালির আভা
সম্পূর্ণ দীপ্তির মত আলোকিত—ক্রমে আলোকিত হতে চায়।

লণ্ডন রুশিয়া গ্রীসদ্বীপপুঞ্জ কলকাতা চীন,
অগণন কন্ফারেন্সে বিকীর্ণ য়ুরোপা,
আমেরিকা—যেন বীতবর্ষণের কৃষ্ণমেঘ নক্ষত্রের পথে;
ক্ষণিক উজ্জ্বল হয়ে ক্লান্তি ক্লেদ ভয় অন্ধকার হতে চায়
এখুনি আবার তবু। প্রকৃতিতে সূর্য আসে, অস্তের আকাশে
চ’লে যায়; অস্তগতিহীন শুভ্র জনহৃদয়ের
সূর্যনগরীর দিকে যেতে হবে চেতনায় মানুষের সময় চলেছে।

ক্রান্তি । কার্তিক ১৩৫৪