সবার ওপর

সবার ওপর তোমার আকাশ প্রতিম মুখে রয়েছে
সকল সকালের রৌদ্র
মনে হয়, সৃষ্টির অগ্নিমরালী পৃথিবীকে বঞ্চিত করে যদিও,
পৃথিবী মানুষকে,
যুদ্ধের অবিস্মরণীয় প্রতিভা ভাইকে আকর্ষণ করে যদিও
ভাইবোনকে নিঃশেষ ক’রে দেবার জন্য,
রক্তনদীর ভিতর থেকে ফ’লে ওঠে শাদা মিনার,
মহৎ দার্শনিকের মুণ্ডচ্ছেদ ক’রে জেগে ওঠে খুলির বাটি,
নির্বোধ প্রণয়ীদের নবান্নরসে উপচে ওঠে কিনারা তার,
মিষ্টি, মলিন, রুক্ষ ভূকম্পহীন অন্নোৎসবে, জেগে ওঠে বাসনা
কৃষ্ণার শাড়ি টেনে নেয়ার,
সাম্রাজ্য ভেঙে যায়,—
হেমন্তের মেঘের মত মিলিয়ে যায় সম্রাটদের চীৎকার,
তবুও দুর্বার সৃষ্টির কুয়াশা সরিয়ে দেবার জন্য তুমি
ডান হাত হ’লে তোমার;
একটি কালো তিলের নিখুঁত থেকে অপরিমেয় পদ্মের মত
হ’লে তুমি তোমার বাম হাত।
সৃষ্টি ও সমাজের বিকেলের অন্ধকারের ভিতর
সকালবেলায় প্রথম সূর্য-শিশিরের মতো সেই মুখ;
জানে না কোথায় ছায়া পড়েছে আমার জীবনে, তার জীবনে,
সমস্ত অমৃতযোগের অন্তরীক্ষে।

দেশ। শারদীয় ১৩৬৩