কথোপকথন ২০

অ্যাপয়েন্টমেন্ট করলে সেটা রাখতে হয়।
আর সেটাই সভ্যতা।
বাড়ি থেকে বেরোতে সাতচল্লিশ রকমের ছলচাতুরী
গণ্ডা গণ্ডা মিথ্যের মুখে সত্যির স্নো-পাউডার।
হাজার উটকো বিপদের আশঙ্কায়
হাত-পা ডিপ-ফ্রীজের মাংস।

কাল ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় রেস্টুরেন্ট।
মশায়ের টিকির দেখা না পেয়েও
কেবিনের অন্ধকারে ঢুকে আলো জ্বালাই।
চেনা বেয়ারা আমাকে দেখে এক পলকে পাথর।
তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলে
পরে এসেছিলাম মায়ের বেনারসী
গড়িয়াহাটার মোড়ে বাসের জন্যে দাঁড়িয়ে
সামনে এসে দাঁড়াল এক ফুলওয়ালা
চণ্ডালিকার তৃষ্ণাকাতর বৌদ্ধ ভিক্ষুর ভঙ্গী।
কিনলাম বেলকে বাতিল করে জুঁইয়ের গোড়ে
সেও তোমার কথা ভেবে।
তোমার শেষ চিঠিটায় ছিল জুঁইয়ের উপমা।
যখন সেকেন্ডকে মনে হয় যুগ
তখন আধঘণ্টা ইন্টারনিটি।
আর কেবিনের মধ্যে আধঘণ্টা একটা একলা মেয়ে মানে
একশোটা চোখের চাটনি।
আধঘণ্টা পেরোতেই মাথার শিরা ছিঁড়ে
যুদ্ধের সাইরেন
স্বপ্নের চতুর্দিক তখন ঘিরে ফেলেছে মারণাস্ত্র।

অপমানে নিজের ছায়াকে মাড়িয়ে মাড়িয়ে বাড়ি ফেরা।
গায়ের বেনারসী চটের বস্তা
জুঁইয়ের গোড়ে শিকল।

সেদিন আমার না-ঘুমানো রাতের জলের ফোঁটার খবর
জানে কেবল মরা আকাশের জ্যান্ত একটা নক্ষত্র
আর মাথার বালিশ।

(নন্দিনীর চিঠি শুভঙ্করকে ৪)