দ্বিতীয় খন্ডঃ কথোপকথন ৪

একদিন তােকে বলেছিলুম না একটা সাংঘাতিক দৃশ্যের কথা,
নিজের চোখে দেখা জাহাজডুবি,
মাইরি, একটা ঢলঢলে যৌবনের জ্যান্ত জাহাজকে,
ঢেউ-ফেউ কোথাও কিচ্ছু নেই, যেন সূর্য উঠছে, সহজ সরল,
আড়াই লক্ষ বছরের একটা ঘুমন্তু আগুনে পাহাড়,
এক ইঞ্চি, দুই ইঞ্চি, সাত ইঞ্চি, কুড়ি ইঞ্চি,
একশাে, দুশাে, কথা বলতে বলতে ভালােবাসা বাড়ে যে রকম,
ভালােবাসা বাড়তে বাড়তে রক্ত মাংস যেমন জিরাফের মতাে লম্বা,
সেইভাবেই, শেষ কবে দুঃস্বপ্ন দেখেছিস তুই, শেষ কবে
এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় হয়েছিস হাসপাতালের টেবিলে,
উন্মাদ চাউনিতে আকাশ জুপিও-র ঘােড়ার চাইতে
তীব্র বেগে পালাচ্ছে পৃথিবীর উপর দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে,
এই জাহাজডুবির কাছে সে-সব এমন কিছুই মারাত্মক নয়,
বিশ্বাস করবি কিনা জানি না, ডুবােজাহাজটাকে বুকে জড়িয়ে,
ভাঙতে ভাঙতে, গড়তে গড়তে, নদীর জল লজ্জায় লাল,
আড়াই-লক্ষ বছরের খিদেয় জেগে ওঠে সে
কখনাে ঘুমােতে পারে শুধু চুম্বন আর আলিঙ্গনে?