দ্বিতীয় খন্ডঃ কথোপকথন ৬

কম নয়, প্রায় বছর পঞ্চাশেক আমরা এই পৃথিবীতে,
পৃথিবীতে কতজন আছি ভাবতে গেলে মাত্র অল্প কজনের মুখ,
যেন মাত্র শ দেড়েক, আসলে গােনা-গুনতি করি শুধু সেই কজনকে
যাদের বুকের ব্যান্ডেজে লাল ছােপ, আর যারা সারা রাত লম্বা
আলােকস্তম্ভগুলােকে গিলে গিলে মাতাল,
দৌড়তে চায় আকাশ ছিড়ে, যেন নক্ষত্রপুঞ্জে আড়াল হয়ে আছে
জাহাজ চলাচলের সব চেয়ে শৌখিন এবং সম্ভ্রান্ত স্টেশনটা, আর
এইমাত্র রাষ্ট্রবিরােধী গীটারে রক্ত-রােদের তার পরাতে গিয়ে নিহত হল যারা,
এমনকি কিছু কিছু মৃত মানুষকেও আমরা গণনা করে ফেলি,
ভেজানাে ঘরের দরজা খুলেই দেখতে পাই
চেয়ার-টেবিল, কাগজ, কলম, কাঠের আলমারি, পর্দা,
পাপােষ জুড়ে বসে আছেন তারা, এই শ দেড়েক মানুষের মধ্যে
অবশ্য আরাে কেউ কেউ থেকে যায় যারা মুকুটের চেয়ে অনেক বেশি
ঝুঁকে পড়ে মাটির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা এক টুকরাে শিকড়ের দিকে,
পাশা খেলতে বসে যারা পণ হিসেবে পাশে রেখে দেয় নিজেদের আপােষহীন হৃৎপিণ্ড,
আর যারা কিছুতেই সায় দেয় না শিকল-পােড়ানাে চিতার আগুনে জল ঢালতে।।

ভিয়েতনামের আকাশে যখন ফিনকি দিয়ে ওঠে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের ঝনঝনে হাওয়া,
তখনই কেবল মনে পড়ে যায় আরাে সব মানুষের মুখ, যখন হিরােসিমা পুড়তে থাকে
তখন পাঁজরের ডানদিকে বাঁদিকে অসংখ্য মা বােন তাই, আফ্রিকার কালাে অরণ্যে শিকারি-বন্দুকের জবাবে
যখন গমগম বেজে ওঠে মরণাপন্নের চরম দুন্দুভি, লােকে লােকারণ্য হয়ে যায়
আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ঘর দোর দরজা দালান ছাদ সিঁড়ি লম্বা করিডর।
অমিতাভ, তাের কখনাে মনে হয়েছে, আমাদের হৃদয়ের মাপ নিয়েই এই পৃথিবী?