মিছিলে নতুন মুখ

তুমি নিজেই এসেছ নেমে উন্মাতাল রাজপথে আজ।
দৃপ্ত সাহসী ভঙ্গি, চিবুকের সজীব ঔদ্ধত্য!
চাবুকের টান টান তীক্ষ্নতার মত তোমার তারুণ্য,
তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া ভবিষ্যৎ নতজানু তোমার সামনে,
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইতিহাস
বড় স্বপ্নগ্রস্ত, বড় আশাবাদী চোখে।

তুমি নিজেই এসেছ নেমে,
তোমাকে ডাকতে হয়নি সরবে, লিফলেটে, বিটিভি, বেতারে।

বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ে তুমি টের পেয়ে গেছো
খাবার টেবিলে বসে তুমি টের পেয়ে গেছো
নিজেরই কন্ঠস্বর শুনে তুমি টের পেয়ে গেছো
মায়ের মুখের দিকে চেয়ে তুমি টের পেয়ে গেছো
অগ্রজের পাংশু কপালের দিকে চেয়ে তুমি টের পেয়ে গেছো আজ
নিজেই এসেছো তুমি নেমে-

যেন শুক্লপক্ষ জোয়ারের নোতুন জলের স্রোত,
ঝলমলে টাটকা ঘেরাণ উঠে আসা জনপদ বেয়ে।
যেন বৈশাখের বক্ষ চিরে ছুটে আসা টালমাটাল হাওয়া,
নিয়ে যাবে সমূলে উড়িয়ে ভাঙা জরাজীর্ণ অচল বিশ্বাস।
যেন তা আগুন, পুড়িয়ে করবে খাঁটি বস্তুজাগতিক মন।
তোমাদের পাঠ্যক্রমে ছিলনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
তোমাদের হয়নি শুনতে দেয়া দশ লক্ষ মানুষের
সমবেত কন্ঠধ্বনি,
তোমাদের হয়নি দেখতে দেয়া বাঙালীর শ্রেষ্ঠ মানুষটিকেই।
কেবলি কুচক্রে আর মিথ্যাচারে, কেবলি প্রতারণায়
ঢেকে আছে সুদীর্ঘ সময়,
ভুল নায়কের মিথ্যে উজ্জ্বলতা, উৎকীর্ণ ফলক-স্মৃতি
ভুল ইতিহাস লেপন করেছে কালি জাতির ললাটে।

তোমাকে জানতে দেয়া হয়নি তোমার পূর্বপুরুষের
সুপ্রাচীন সভ্যতার কথা,
কৃষিকর্মে সুনিপুণ, শিল্পে সমাহিত
আর সাগর বাণিজ্যে ডিঙা সপ্তমধুকর,
এ-সব তোমার ছিলো- কখনো জানতে দেয়া হয়নি তোমাকে-

তবু তুমি নিজেই এসেছো নেমে আজ মিছিলে সবার আগে,
কাঁধে তুলে নিয়েছো বন্ধুর লাশ, অচেনা সাথীর দেহ।
প্লাবনের মত ফিরে দাঁড়িয়েছো বুলেটের বিরুদ্ধে সবাই-
তোমাদের চোখ জুড়ে স্বাধীনতা শুধু এক স্বপ্ন হয়ে আছে,
তোমাদের স্বপ্ন জুড়ে স্বাধীনতা আজো এক শব্দ হয়ে আছে।
এমনকি তোমাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালিতেও প্রতিদিন।
স্বাধীনতা নিগৃহীত বুড়ো বোকাদের বাজে তর্জনি হেলনে।
স্বাধীনতা মানুষের আজো এক অনলব্ধ অগাধ আকাঙ্ক্ষা-

স্বাধীন মাটিতে জন্ম তোমার তরুণ,
শোণিতে এনেছ বয়ে দুই হাজার বছর,
তারো আগে নির্বেদ সময়,
তোমার উত্থিত হাতে অনার্যের অন্তহীন লড়াইয়ের স্মৃতি।
তোমাকে জিততে হবে- মনে রেখো
ফেরার সকল পথ বন্ধ হয়ে গেছে-