সূর্য্যমল্লিকা

সূৰ্য্য যখন তেজ হারাল কে পেল সৌন্দর্য্য তার?
কুজ্ঝটিকার বুক চিরে ওই ফুটল সোনা মুখটি কার?
ফুটল কুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে কার অপরূপ রূপ-শিখা?
গাঁদা ওকে বল্ছে লোকে ও মোর সূৰ্যমল্লিকা।

শীতের প্রাতে পূজার সাজি সাজিয়ে রাখে এক্‌লা সে,-
শ্মশান-শিবের পা’র কাছে ঠিক হৈমবতী কৈলাসে।
সূৰ্যদেবের আশীর্ব্বাদে ও যে সদাই প্রফুল্ল,
রস মরিলেও রূপ না টুটে ফুল মাঝে ও অতুল্য।

সূর্য্যমুখীর মতন ও নয় সূর্য্যদেবের মুখ-চাওয়া,
বিভূতি তাঁর ওই পেয়েছে ওর পাওয়াটাই ঠিক পাওয়া;
পেয়েছে ও প্রাণের মাঝে ছেয়েছে সর্বাঙ্গ তাই
তাই তো উদয়াস্তে রবির ওর পুলকের বিরাম নাই।

যেথাই রাখো যেথাই থাক্ ও হেসেই আছে সর্ব্বদা,
মরণে ও হয় নাক’ ম্লান মৃত্যুপারের কয় কথা;
সূৰ্য্যহারা কল্পবাসের পঞ্চ-তপার হোমশিখা,
গাঁদা ও নয় বল্ছি সিধা—ও মোর সূৰ্য্যমল্লিকা।