দেবদারুপুরুষ

আরক্ত দু’চোখে নামে সুবর্ণ জোস্নার ছোঁয়া, জেগে উঠে দেখি
অতল আঁধার ছিড়ে দাড়িয়ে রয়েছে ওই দেবদারুপুরুষ
সমর্থ যৌবন তার, আভূমি প্রণতা হয়ে সেরেছি প্রণাম
সমস্ত চৌহদ্দি জুড়ে জেগে ওঠে পঞ্চমীর পূর্ণগর্ভা চাঁদ।

অচপল চোখে তার নেচে ওঠে অপরূপ সবুজ অরণ্য
কাশফুলে দুলে ওঠে বিহুল বাতাস
খালি পায়ে হেঁটে আসে উদোম রোদ্দুর
সােনার ফাগুন দিনে দিগন্ত ছাপিয়ে এলে অপাঙ্গ সুন্দর।

আশৈশব সাধ ছিল
শৈল্পিক শৃঙ্গার এনে পরলে পরলে দেবে কর্ষণের বীজ
মাংসল মাটির ঘ্রাণ শুকে পুণ্যবতী হবে শস্যের জীবন
হে দেবদারুপুরুষ-
শতাব্দীর নিরবধি অন্ধকার ধুয়ে আনাে আলাে ও আগুন
স্মৃতির শিয়রে বসে সানাই বাজাও তুমি অরূপ লাবণ্য
পৃথিবীতে এনে দাও শীতার্ত শান্তির দিন
ধ্বংসের আগুন তুমি ছুড়ে দাও প্লাবনের হামুখাে জঠরে।

হে দেবদারুপুরুষ
তােমার প্রস্থান পথ আগলে দাড়িয়ে থাকি অমােঘ ইস্পাত
হলুদ লণ্ঠন তুলে নিরুচ্চার মেনে নিই চরম সন্ন্যাস।

(গ্রন্থঃ শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা)