দুরাশা ১

(কোনওরকম শর্ত ছাড়াই আমার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর
সহায়-সম্পদ, মুনমুন, তােমাকে দিলাম)

রীতিমতাে জয়জয়কার পড়ে যায়, চাদ্দিক থেকে ওঠে তুমুল কোলাহল
জীবন কি ঝলসে দেবে ঝলমলে সুন্দর?
কে আসে ওই রাজেন্দ্রানী অহং?
কে তুমি পরাস্ত করেছ দুর্দান্ত ঈশ্বর?

— আমার আত্মার ভেতরে ধুকপুক করে একটি অস্তিত্ব
দ্যাখাে এই লাবণ্যময়ী, নাম মুনমুন

— শােভনদা, কাছে কোথাও কি আগুন লেগেছে?
এত ধোঁয়া, চোখে বড় লাগে।

— কী যে অবুঝ তুমি এ কি চন্দনবন?
চন্দ্রমল্লিকার ঝােপে চুপচুপ চড়ুইভাতি?
ফসলিম শ্যামল প্রান্তর?
এই রূঢ় দালানকোঠা, কী যে বলাে, এখানে আগুন?

– কী যে অবুঝ আমি! কী রকম অথর্ব সহিস
শীর্ণ চাবুকে বাগে আনতে চাই অশান্ত পঙ্খিরাজ।
কী রকম জন্মপাপী আমি
প্রার্থনায় পেতে চাই স্বর্গের ঈশ্বর।

(গ্রন্থঃ শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা)