বাইজেন্টিয়ামের উদ্দেশে নৌযাত্রা

মূল: ডব্লিউ বি ইএট


সেটা নয় বুড়ােদের দেশ। যুবকযুবতী
বাহুপাশে একে অপরের, পাখিরা শাখায়,
—ওই মুমূর্ষ প্রজন্মরা— সঙ্গীতমুখর,
শ্যামনপ্রপাত, ম্যাকেরেল-বােঝাই সাগর,
মাছ, মাংস, পাখির গােশত, সারা গ্রীষ্ম
স্তব করে তার, যা কিছু উৎপন্ন, জন্মপ্রাপ্ত, এবং নশ্বর।
ইন্দ্রিয়বিলাসী গানে মেতে সারা বেলা
জরাহীন মননের কীর্তিকে কৰ্বে অবহেলা।


বৃদ্ধ মানুষ এক তুচ্ছ বস্তুমাত্র,
লাঠির মাথায় ঝােলা ছেঁড়া বস্ত্র, যদি না আত্মা
করতালি দিয়ে গান গায়, এবং আরাে উঁচু স্বরে
গান গায় তার মরপােশাকের প্রতিটি হেঁড়ার জন্যে,
নেই সেখানে কোনাে সঙ্গীতনিকেতন শুধু আছে
আপন মহত্ত্ব বন্দনার সমূহ কীর্তি;
তাই আমি পাল তুলে অসংখ্য সাগরে
এসেছি বাইজেন্টিয়ামের পবিত্র নগরে।


ঈশ্বরের পূত আগুনে দাঁড়ানাে হে ঋষিগণ
যেনাে খচিত দেয়ালের স্বর্ণ মােজায়িকে,
এসাে ওই পূত অগ্নি থেকে, কাটিমের পাক খেয়ে,
হও আমার আত্মার সঙ্গীতের প্রভু।
গ্রাস করাে আমার হৃদয়; বাসনায় রােগা হ’য়ে,
বাঁধা প’ড়ে একটা মুমূর্ষ পশুর সাথে
জানে না সে কী; আমাকে তুলে করতলে
সগ্রথিত করাে শাশ্বতের নির্মাণকৌশলে।


একবার প্রকৃতিনিষ্ক্রান্ত হ’লে আবার কখনো আমি
ধরবো না দেহ প্রাকৃতিক বস্তু থেকে কোনাে,
নেবাে সেই রূপ নিদ্রাতুর সম্রাটকে
জাগিয়ে রাখার জন্যে যা বানায় গ্রীসীয় স্বর্ণকারেরা
হাতুড়িপেটানাে স্বর্ণ আর স্বর্ণ এনামেলে;
অথবা বাইজেন্টিয়ামের সম্ভান্ত নরনারীদের উদ্দেশে
যা কিছু অতীত, বা অতীতমান, অথবা আসন্ন
তার গাথা গাওয়ার জন্যে উপবিষ্ট করে কোনাে সুবর্ণ শাখায়।