কবি-বরণ

(নজরুল-কে)

কাব্যের অমৃত-রসে চিত্ত যার প্রমত্ত মশগুল,
মালঞ্চে যাহার নিত্য ফোটে ফুল, ডাকে বুলবুল—
সেই নজরুল কবি, তারি এই জনম-তিথিতে
কোন্‌ প্রশান্তির বাণী কেবা তারে যাবে শুনাইতে!
যে জন সুরের রাজা, কী সুর লাগিবে তার কানে;
অবেলায় বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠ যার, সে কি তাহা জানে!

তবু শুধু সেই কথা রহি হি পড়ে আজি মনে,
যে আর্ত জননী তার অরন্তুদ বেদনা-বন্ধনে
কাঁদে নিত্য নিরুপায়, যার লাগি বিদ্রোহী সে হিয়া
নির্জিত নিষ্পিষ্ট কণ্ঠে নিরন্তর মরে গুমরিয়া—
তাহারে সে ভুলিবে না, এ-জীবনে কিংবা পরপারে
ঝঙ্কার-টঙ্কার হতে সে-কথা সে ফোটাবে ওঙ্কারে।

ভুলাও মােদের মােহ মিলনের মহােদাত্ত স্বরে
রচি নব শান্তিপর্ব কলহের কুরুক্ষেত্র ‘পরে।
নিম্নে যত ভেদি গণ্ডি, উর্ধ্বে হাসে অনন্তু আকাশ;
শিল্পীরে বাধে না ধর্ম, গুণীরে স্পর্শে না জাতি-পাশ,
বাণীর বেদনা-দীপ্ত প্রতিভার নাহি আত্মপর—
সেই সুর ভরি তােলাে বংশী তব সহজ সুন্দর।

বিদায়ের পূর্বে আজি বড় সাধ এ লুব্ধ শ্রবণে
শুনে যাব তােমারি জয়ের শঙ্খ সে-মহামিলনে।