পাঞ্চজন্য

দুখে গাঁথা এই জীবনের মালা, তবু এরে ভালাে লাগে;—
কালাে আকাশের গন্ধ বেদনা রঞ্জিত উযারাগে!
গন্ধ বিলায়ে ঝরে পড়ে ফুল সন্ধ্যার কিনারায়,
নিশি না পােহাতে মরে যায় হাওয়া দখিনের জানালায়;
বৌ-কথা-কও সুরের আবেশে বধূ ধীরে মেলে আঁখি,
বাতায়নপাশে ঘােমটা খুলিতে দেখে—উড়ে গেছে পাখি!
এই তাে জীবন, তবু এরে, হায় ভালাে লাগে, ভালাে লাগে;
কোন সে বাসনা রাস্তা হয়ে ফুটে বক্ষের গুলবাগে!

বর্ষার জল নামিয়া গিয়াছে, জাগিয়া উঠেছে চর,
কাঁচা রােদখানি বালুকার বুকে চিক্কণ ভাস্কর;
নূতন গজানো বাবলার বনে বাসা বাধিয়াছে পাখি,
চখাচখীদের চরণ-চিহ্ন তুলে কে দিল রে আঁকি!
বুনাে ঝাউয়েদের বুকের ঝুরিতে উদাসীন মেঠো হাওয়া,
কী ধন খুঁজিতে ঘুরে মরে যেন দিবসে নিশিতে-পাওয়া!
দূরে দূরে মাঠ ভরিয়া উঠেছে শ্যামল শস্যভারে,
কৃষাণের বধু থালা লয়ে হাতে হেসে উঠে হেরি কার!
কোন অচেনার চপল চরণে জানাতে মিনতি তার,
জেলের যুবতী জালের সঙ্গে বুনিতেছে গীতিহার!
আজি এ প্রভাতে জাগিয়াছে প্রাণ, জীবন আমার ধন্য;—
বুঝিয়াছি আজ জীবনের কাজ নহে সে নিজের জন্য।
কালাে আকাশের বুকের আঁধার দিবালােকে লভে দীপ্তি,
যেন সে-ই বলে ভরি উঠে প্রেম—সবার সেবার তুপ্তি,
ঘর করি পর পর করি ঘর, হারায়ে আপন লক্ষ্য,
আকাশ পেয়েছে উদার চক্ষু, সাগর অপার বক্ষ;
তারি পানে চেয়ে আজি এ পরান লভিল কি মাের মুক্তি?
মুক্তার মালা ঠেকিল কি হাতে ঘাটে ঘাটে ঘাঁটি শুক্তি!
পাঁচজনে ডেকে পঞ্চমে তাই কাঁদে এ পাঞ্চজন্য—
সব যে আমার, আমি যে সবার—ধন্য রে আমি ধন্য।